মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাশের পর সেরা ১০টি স্কলারশিপ: উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তার বিস্তারিত গাইড
মাধ্যমিক (Class 10) এবং উচ্চমাধ্যমিক (Class 12) পাশের পর পশ্চিমবঙ্গের ছাত্রছাত্রীদের জন্য সেরা ১০টি সরকারি ও বেসরকারি স্কলারশিপের তালিকা। জানুন যোগ্যতা, টাকার পরিমাণ এবং আবেদনের শেষ তারিখ।
পশ্চিমবঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রী আর্থিক সমস্যার কারণে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে হিমশিম খায়। আপনার এই স্বপ্নকে সফল করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার স্কলারশিপ প্রদান করে। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা পশ্চিমবঙ্গের সেরা ১০টি স্কলারশিপ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
১. স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট-কাম-মিনস স্কলারশিপ (SVMCM)
এটি পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য স্কলারশিপ। একে অনেকে 'বিকাশ ভবন স্কলারশিপ'ও বলে থাকেন।
- যোগ্যতা: মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকে অন্তত ৬০% নম্বর থাকতে হবে। পারিবারিক বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকার কম হতে হবে।
- সুবিধা: কোর্সের ধরন অনুযায়ী মাসিক ১,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। স্নাতক (Science/Arts/Commerce), ইঞ্জিনিয়ারিং বা মেডিকেল পড়ুয়াদের জন্য এটি সেরা।
- আবেদন মাধ্যম: svmcm.wbhed.gov.in
২. নবান্ন স্কলারশিপ (CM Relief Fund Scholarship)
মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে সরাসরি এই সহায়তা দেওয়া হয়। যারা আর্থিক অভাবের কারণে পড়াশোনা করতে পারছেন না, তাঁদের জন্য এটি বিশেষ কার্যকর।
- যোগ্যতা: মাধ্যমিকে ৬৫% এবং উচ্চমাধ্যমিকে ৬০% নম্বর প্রয়োজন। বার্ষিক আয় ১.২০ লক্ষ টাকার কম হতে হবে।
- সুবিধা: এককালীন ১০,০০০ টাকা দেওয়া হয়।
- আবেদন পদ্ধতি: এটি সাধারণত অফলাইনে বা নির্দিষ্ট পোর্টালে আবেদনের মাধ্যমে পাওয়া যায়।
৩. কন্যাশ্রী প্রকল্প (K2 ও K3)
বাল্যবিবাহ রোধ এবং ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ দিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই বিশ্ববন্দিত প্রকল্প।
- যোগ্যতা: ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত অবিবাহিত থাকতে হবে এবং কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে হবে।
- সুবিধা: K2 স্তরে এককালীন ২৫,০০০ টাকা এবং স্নাতকোত্তর স্তরে K3-এর মাধ্যমে মাসিক ২,০০০-২,৫০০ টাকা পাওয়া যায়।
৪. ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ (Aikyashree Scholarship)
রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত (মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জৈন, শিখ, পার্সি) ছাত্রছাত্রীদের জন্য এটি চালু করা হয়েছে।
- যোগ্যতা: শেষ পরীক্ষায় অন্তত ৫০% নম্বর এবং পারিবারিক আয় ২ লক্ষ টাকার নিচে।
- বিভাগ: এখানে প্রি-ম্যাট্রিক, পোস্ট-ম্যাট্রিক এবং মেধা-কাম-মিনস তিন ধরণের সুবিধা রয়েছে।
- পোর্টাল: wbmdfcscholarship.org
৫. ওয়েসিস স্কলারশিপ (Oasis Scholarship)
মূলত SC, ST এবং OBC ক্যাটাগরির ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই পোর্টালটি উৎসর্গ করা হয়েছে।
- যোগ্যতা: সংরক্ষিত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হওয়া বাধ্যতামূলক।
- সুবিধা: কোর্স ফি এবং হোস্টেল ফি অনুযায়ী টাকার পরিমাণ নির্ধারিত হয়। এটি সরাসরি পড়ুয়ার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়।
৬. জিপি বিড়লা স্কলারশিপ (GP Birla Scholarship)
একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় বেসরকারি স্কলারশিপ যা পশ্চিমবঙ্গের মেধাবী পড়ুয়াদের দেওয়া হয়।
- যোগ্যতা: মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকে ৮০% (WBCHSE) বা ৯৫% (CBSE/ISC) নম্বর থাকতে হবে।
- সুবিধা: বছরে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত স্কলারশিপ এবং বই কেনার জন্য অতিরিক্ত ৭,০০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে।
৭. জগদীশ বোস ন্যাশনাল সায়েন্স ট্যালেন্ট সার্চ (JBNSTS)
বিজ্ঞানের পড়ুয়াদের জন্য এটি একটি প্রতিযোগিতামূলক স্কলারশিপ।
- যোগ্যতা: উচ্চমাধ্যমিকের পর সায়েন্স বা ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে ভর্তি হতে হয়। একটি মেধা যাচাই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়।
- সুবিধা: মাসিক ৪,০০০ টাকা এবং বই কেনার জন্য বার্ষিক ৫,০০০ টাকা মঞ্জুর করা হয়।
৮. সিতারাম জিন্দাল স্কলারশিপ (Sitaram Jindal Scholarship)
এটি একটি সুপরিচিত ট্রাস্ট স্কলারশিপ যা পলিটেকনিক, আইটিআই (ITI), ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সাধারণ স্নাতক স্তরে দেওয়া হয়।
- যোগ্যতা: মেধা এবং আর্থিক অবস্থা উভয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- সুবিধা: কোর্স অনুযায়ী মাসিক ৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত সহায়তা পাওয়া যায়।
৯. এইচডিএফসি ব্যাংক পরিবর্তন স্কলারশিপ (HDFC Badhte Kadam)
বেসরকারি কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (CSR) এর অধীনে এই স্কলারশিপ দেওয়া হয়।
- যোগ্যতা: যারা পারিবারিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং পড়াশোনায় ভালো।
- সুবিধা: কোর্স ফি হিসেবে ১৫,০০০ থেকে ৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়।
১০. ন্যাশনাল স্কলারশিপ পোর্টাল (NSP)
এটি কেন্দ্রীয় সরকারের একটি একক পোর্টাল যার মাধ্যমে 'সেন্ট্রাল সেক্টর স্কিম' এবং বিভিন্ন মন্ত্রকের স্কলারশিপ আবেদন করা যায়।
- সুবিধা: উচ্চমাধ্যমিকের পর যারা কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে স্কলারশিপ পেতে চান, তাদের জন্য এটি সেরা প্ল্যাটফর্ম।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র (Documents Required):
১. শেষ পরীক্ষার মার্কশিট।
২. আধার কার্ড ও রেশন কার্ড।
৩. ইনকাম সার্টিফিকেট (BDO বা গেজেটেড অফিসার দ্বারা সত্যায়িত)।
৪. ব্যাঙ্কের পাসবুকের প্রথম পাতার কপি (IFSC কোড সহ)।
৫. বর্তমান কোর্সে ভর্তির রসিদ।
৬. স্থায়ী বাসিন্দার সার্টিফিকেট (Domicile Certificate)।
২. আধার কার্ড ও রেশন কার্ড।
৩. ইনকাম সার্টিফিকেট (BDO বা গেজেটেড অফিসার দ্বারা সত্যায়িত)।
৪. ব্যাঙ্কের পাসবুকের প্রথম পাতার কপি (IFSC কোড সহ)।
৫. বর্তমান কোর্সে ভর্তির রসিদ।
৬. স্থায়ী বাসিন্দার সার্টিফিকেট (Domicile Certificate)।
### **১. স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট-কাম-মিনস স্কলারশিপ (SVMCM)**
এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বড় স্কলারশিপ।
* **উপকারভোগী:** মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পর উচ্চশিক্ষারত (HS, UG, PG, Polytechnic, Medical, Engineering) মেধাবী ও দুস্থ ছাত্রছাত্রী।
* **যোগ্যতা:**
* পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
* পারিবারিক বার্ষিক আয় ২,৫০,০০০ টাকার কম হতে হবে।
* **মাধ্যমিকের পর:** অন্তত ৬০% নম্বর নিয়ে পাস করে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হতে হবে।
* **উচ্চমাধ্যমিকের পর:** অন্তত ৬০% নম্বর নিয়ে পাস করে স্নাতক (UG) স্তরে ভর্তি হতে হবে।
* **বৃত্তির পরিমাণ:** কোর্স অনুযায়ী প্রতি মাসে ১,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা।
* **আবেদন পদ্ধতি:** পুরোপুরি অনলাইন। অফিসিয়াল পোর্টালে (svmcm.wbhed.gov.in) গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে মার্কশিট, আয় এবং বাসস্থানের প্রমাণপত্র আপলোড করতে হয়।
### **২. কন্যাশ্রী প্রকল্প (K2 এবং K3)**
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মেয়েদের শিক্ষার উন্নতির জন্য এই যুগান্তকারী প্রকল্প।
* **উপকারভোগী:** শুধুমাত্র ছাত্রীরা।
* **যোগ্যতা:**
* **K2 (এককালীন):** ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সী অবিবাহিত ছাত্রী, যে কোনো স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে।
* **K3 (মাসিক):** কন্যাশ্রী K2 প্রাপক ছাত্রী, যে উচ্চমাধ্যমিকের পর স্নাতক স্তরে বিজ্ঞান, কলা বা বাণিজ্য বিভাগে অন্তত ৪৫% নম্বর নিয়ে পাস করে স্নাতকোত্তর (PG) স্তরে ভর্তি হয়েছে।
* **বৃত্তির পরিমাণ:**
* **K2:** এককালীন ২৫,০০০ টাকা।
* **K3:** বিজ্ঞান বিভাগের জন্য মাসে ২,৫০০ টাকা, কলা/বাণিজ্য বিভাগের জন্য মাসে ২,০০০ টাকা।
* **আবেদন পদ্ধতি:** K2-এর আবেদন স্কুল বা কলেজের মাধ্যমে ফিজিক্যাল ফর্মে হয়। K3-এর আবেদন SVMCM পোর্টের মাধ্যমেই অনলাইনে করা যায়।
### **৩. ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ (Aikyashree)**
পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের (মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ, পার্সি, জৈন) ছাত্রদের জন্য এই স্কলারশিপ।
* **উপকারভোগী:** সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীরা (Pre-matric, Post-matric, এবং Merit-cum-Means স্তর)। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পর সাধারণত **Post-Matric** এবং **Merit-cum-Means** স্কলারশিপ প্রযোজ্য।
* **যোগ্যতা:**
* পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হতে হবে।
* পারিবারিক বার্ষিক আয় ২,০০,০০০ টাকার (Post-Matric) বা ২,৫০,০০০ টাকার (Merit-cum-Means professional courses) কম হতে হবে।
* শেষ পরীক্ষায় অন্তত ৫০% নম্বর থাকতে হবে।
* **বৃত্তির পরিমাণ:** কোর্সের ওপর ভিত্তি করে বছরে কয়েক হাজার টাকা।
* **আবেদন পদ্ধতি:** WBMDFC-এর অফিসিয়াল পোর্টাল (wbmdfcscholarship.org)-এ অনলাইন আবেদন করতে হয়।
### **৪. মরুদ্যান স্কলারশিপ (Oasis Scholarship)**
এটি পশ্চিমবঙ্গের তফশিলি জাতি (SC), তফশিলি উপজাতি (ST) এবং ওবিসি (OBC) ছাত্রদের জন্য।
* **উপকারভোগী:** SC, ST, এবং OBC ছাত্রছাত্রীরা যারা মাধ্যমিকোত্তর (Post-Matric) পড়াশোনা করছে।
* **যোগ্যতা:**
* পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা এবং নির্দিষ্ট কাস্ট সার্টিফিকেট থাকতে হবে।
* পারিবারিক বার্ষিক আয় SC/ST-দের জন্য ২,৫০,০০০ টাকা এবং OBC-দের জন্য ১,০০,০০০ টাকার কম হতে হবে।
* শুধুমাত্র সরকারি বা সরকার স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে পাঠরতরা যোগ্য। মার্কসের কোনো কড়াকড়ি নেই, তবে পাস করতে হবে।
* **বৃত্তির পরিমাণ:** কোর্সের ধরন এবং হোস্টেলার/ডে-স্কলার স্ট্যাটাসের ওপর ভিত্তি করে পরিমাণ ঠিক হয়।
* **আবেদন পদ্ধতি:** Oasis পোর্টালে (oasis.gov.in) গিয়ে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন এবং ফর্ম ফিলাপ করতে হবে। এরপর ফর্মটি ডাউনলোড করে প্রয়োজনীয় নথিসহ ব্লক বা মিউনিসিপ্যালিটি অফিসে জমা দিতে হয়।
### **৫. ন্যাশনাল স্কলারশিপ পোর্টাল (NSP) সেন্ট্রাল সেক্টর স্কিম**
ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রক কর্তৃক মেধাবী ছাত্রদের জন্য প্রদান করা হয়।
* **উপকারভোগী:** উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর সাধারণ স্নাতক বা পেশাদার কোর্স করা ছাত্রছাত্রীরা যারা সংশ্লিষ্ট বোর্ডের মেধা তালিকার উপরের দিকে (Top 20th percentile) থাকে।
* **যোগ্যতা:**
* উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট বোর্ডের মেধা তালিকায় থাকতে হবে।
* পারিবারিক বার্ষিক আয় ৪,৫০,০০০ টাকার কম হতে হবে।
* অন্য কোনো কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারি স্কলারশিপ ভোগ করা যাবে না।
* **বৃত্তির পরিমাণ:** স্নাতক স্তরের প্রথম তিন বছর বছরে ১০,০০০ টাকা এবং স্নাতকোত্তর স্তরে বছরে ২০,০০০ টাকা।
* **আবেদন পদ্ধতি:** ন্যাশনাল স্কলারশিপ পোর্টাল (scholarships.gov.in)-এ গিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হয়।
### **৬. প্রাইম মিনিস্টার যশস্বী স্কলারশিপ (PM YASASVI)**
সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রক কর্তৃক OBC, EBC, এবং DNT ক্যাটাগরির মেধাবী ছাত্রদের জন্য।
* **উপকারভোগী:** সাধারণত Class 9, 10, 11, 12, এবং UG স্তরের ছাত্ররা।
* **যোগ্যতা:**
* OBC/EBC/DNT বিভাগের অন্তর্গত হতে হবে।
* পারিবারিক আয় ২,৫০,০০০ টাকার কম।
* একটি নির্দিষ্ট প্রবেশিকা পরীক্ষা (YASASVI Entrance Test) পাস করতে হয় (কখনো কখনো এটি মেধার ভিত্তিতেও হতে পারে, বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভরশীল)।
* **বৃত্তির পরিমাণ:** উচ্চমাধ্যমিক স্তরের জন্য বছরে ৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত এবং স্নাতক স্তরের জন্য ১,২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত।
* **আবেদন পদ্ধতি:** NSP পোর্টালে বা NTA-এর যশস্বী নির্দিষ্ট পোর্টালে অনলাইন আবেদন করতে হয়।
### **৭. ইন্সপায়ার স্কলারশিপ (INSPIRE Scholarship)**
ভারত সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রক কর্তৃক বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্রদের জন্য।
* **উপকারভোগী:** उच्चमाध्यमिके বিজ্ঞানে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্ররা যারা বেসিক সায়েন্স (B.Sc, Int. M.Sc) নিয়ে পড়াশোনা করতে চায়।
* **যোগ্যতা:**
* উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট বোর্ডের টপ ১% মেধা তালিকায় থাকতে হবে।
* প্রাকৃতিক বা বেসিক সায়েন্সে (যেমন- পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণীবিদ্যা ইত্যাদি) স্নাতক স্তরে ভর্তি হতে হবে।
* **বৃত্তির পরিমাণ:** বছরে ৮০,০০০ টাকা (৬০,০০০ নগদ বৃত্তি + ২০,০০০ টাকা মেন্টরশিপ প্রজেক্টের জন্য)। ৫ বছর পর্যন্ত পাওয়া যায়।
* **আবেদন পদ্ধতি:** ইন্সপায়ার পোর্টালে (online-inspire.gov.in) সরাসরি অনলাইনে আবেদন করতে হয়।
### **৮. এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক পরিবর্তন ইসিএসএস (HDFC Bank Parivartan's ECSS)**
HDFC ব্যাংক কর্তৃক একটি বেসরকারি স্কলারশিপ, যা দুস্থ ও মেধাবী ছাত্রদের সাহায্য করে।
* **উপকারভোগী:** স্কুল ছাত্র (Class 1-12) থেকে শুরু করে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং ডিপ্লোমা/আইটিআই পড়ুয়ারা। বিশেষত যারা কোনো পারিবারিক সংকটের (যেমন অভিভাবকের মৃত্যু, চাকরি হারানো) কারণে পড়াশোনা বন্ধের মুখে।
* **যোগ্যতা:**
* শেষ পরীক্ষায় অন্তত ৫৫% নম্বর থাকতে হবে।
* পারিবারিক বার্ষিক আয় ২,৫০,০০০ টাকার কম হতে হবে।
* ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সংকটের প্রমাণ থাকলে অগ্রাধিকার পাওয়া যায়।
* **বৃত্তির পরিমাণ:** কোর্স অনুযায়ী এককালীন ১৫,০০০ থেকে ৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত।
* **আবেদন পদ্ধতি:** সাধারণত Buddy4Study বা HDFC-এর নির্দিষ্ট পোর্টালে অনলাইন আবেদন করা যায়।
### **৯. রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন আন্ডারগ্রাজুয়েট স্কলারশিপ**
রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন কর্তৃক স্নাতক স্তরের ছাত্রদের জন্য প্রদান করা হয়।
* **উপকারভোগী:** উচ্চমাধ্যমিকের পর যেকোনো স্ট্রিমে (Arts/Science/Commerce/Professional) স্নাতক স্তরের প্রথম বর্ষের ছাত্ররা।
* **যোগ্যতা:**
* উচ্চমাধ্যমিকে অন্তত ৬০% নম্বর থাকতে হবে।
* পারিবারিক বার্ষিক আয় ১৫,০০,০০০ টাকার কম হতে হবে (তবে ২.৫ লাখের কম আয়ের পরিবার অগ্রাধিকার পায়)।
* একটি অনলাইন অ্যাপটিটিউড টেস্ট পাস করতে হয়।
* **বৃত্তির পরিমাণ:** সম্পূর্ণ কোর্স চলাকালীন মোট ২,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত।
* **আবেদন পদ্ধতি:** রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের স্কলারশিপ পোর্টালে অনলাইনে আবেদন করতে হয়।
### **১০. জিপি বিড়লা স্কলারশিপ (GP Birla Scholarship)**
এটি একটি বেসরকারি ট্রাস্ট স্কলারশিপ যা পশ্চিমবঙ্গের মেধাবী ছাত্রদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তা করে।
* **উপকারভোগী:** উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর স্নাতক স্তরে (Science, Commerce, Arts, Engineering, Medical, etc.) পাঠরত ছাত্রছাত্রী।
* **যোগ্যতা:**
* পশ্চিমবঙ্গ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করতে হবে।
* WBCHSE বোর্ডে টপ ১৫,০০০ মেধা তালিকায় বা ISC/CBSE বোর্ডে ৮০% বা তার বেশি নম্বর থাকতে হবে।
* পারিবারিক বার্ষিক আয় ৩,০০,০০০ টাকার কম হতে হবে।
* **বৃত্তির পরিমাণ:** বছরে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত (টিউশন ফি ও হোস্টেল ফি কভার করার জন্য) এবং বই কেনার জন্য এককালীন ৭,০০০ টাকা।
* **আবেদন পদ্ধতি:** অনলাইনে (gpbirlaedufoundation.com) বা অফলাইনে ফর্ম ডাউনলোড করে আবেদন করা যায়।
### **আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় সাধারণ নথিপত্র:**
যেকোনো স্কলারশিপে আবেদনের জন্য নিচের নথিগুলো প্রস্তুত রাখা উচিত:
1. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের মার্কশিট।
2. মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড (বয়সের প্রমাণ)।
3. পারিবারিক আয়ের সার্টিফিকেট (SDO/BDO/Gazetted Officer দ্বারা প্রত্যয়িত)।
4. বাসস্থানের প্রমাণপত্র (আধার কার্ড/ভোটার কার্ড/রেশন কার্ড)।
5. বর্তমান কোর্সে ভর্তির রসিদ।
6. ব্যাংক পাসবুকের প্রথম পাতার কপি (যেখানে অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC কোড আছে)। আবেদনকারীর নিজস্ব অ্যাকাউন্ট হওয়া বাঞ্ছনীয়।
7. কাস্ট সার্টিফিকেট (যদি প্রযোজ্য হয়)।
8. পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
**বিশেষ পরামর্শ:** ২০২৬ সালে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি পোর্টালে নজর রাখবেন। অনেক সময় শেষ মুহূর্তে নিয়ম বা তারিখ পরিবর্তন হয়। একই সাথে একাধিক সরকারি স্কলারশিপের টাকা পাওয়া যায় না, তাই আপনার জন্য কোনটি সবচেয়ে বেশি লাভজনক, তা ভেবে আবেদন করবেন।

পোস্ট পড়ার পর ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করতে ভুলবেন না ।
( After reading post not forgetting comments. ) 👆