দেশের নতুন ‘রাজনৈতিক দল’ ককরোচ জনতা পার্টি! মাত্র কয়েক দিনে ফলোয়ার ১ কোটি পার, নাম লেখালেন তৃণমূলের ২ সাংসদও?
অনলাইন ডেস্ক, News ACS বাংলা: ভারতের রাজনীতিতে একের পর এক অভিনব ঘটনা ঘটেই চলেছে। তবে এবার যা ঘটল, তা বোধহয় দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর আগে কখনো দেখা যায়নি। রাতারাতি জন্ম নিল এক নতুন রাজনৈতিক সংগঠন, যার নাম রাখা হয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party) বা সংক্ষেপে ‘CJP’। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, আত্মপ্রকাশের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এই ভার্চুয়াল সংগঠনে নাম লিখিয়েছেন দেশের আমজনতা থেকে শুরু করে বহু হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব। এমনকি তৃণমূল কংগ্রেসের দুই হাই-প্রোফাইল সাংসদ এই দলে যোগ দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এর জনপ্রিয়তার গ্রাফ এতটাই তুঙ্গে যে, ফলোয়ার সংখ্যার দিক থেকে এটি দেশের শাসকদল বিজেপি (BJP)-কেও পেছনে ফেলে দিয়েছে।
কেন তৈরি হলো এই ‘আরশোলা বাহিনী’? নেপথ্যে সুপ্রিম কোর্ট!
আক্ষরিক অর্থে এটি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত কোনো রাজনৈতিক দল না হলেও, এর সৃষ্টির পেছনে রয়েছে একটি তীব্র প্রতিবাদ। দেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই অভিনব গোষ্ঠীর জন্ম।
সম্প্রতি একটি মামলার শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন যে, দেশের কর্মহীন বা বেকার যুবকেরা কোথাও সুবিধা করতে না পেরে সাংবাদিকতা, সমাজকর্মী কিংবা আইনের মতো পেশাকে আঁকড়ে ধরেন। অভিযোগ ওঠে, এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি পরোক্ষভাবে বেকারদের ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেছেন।
প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিরোধী শিবিরের রাজনীতিক ও সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তোলেন, শীর্ষ আদালতের সর্বোচ্চ আসনে বসে তরুণ প্রজন্ম সম্পর্কে এমন মন্তব্য কীভাবে করা যায়? যদিও পরে প্রধান বিচারপতি সাফাই দিয়ে জানান, এটি তাঁর মৌখিক পর্যবেক্ষণ মাত্র এবং এর ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। কিন্তু বিতর্ক থামেনি। সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে শরীরে আরশোলার ছবি এঁটে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। আর এই ক্ষোভের আগুন থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জন্ম নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।
প্রতিষ্ঠাতা কে? তৃণমূলের কোন দুই সাংসদ নাম লেখালেন?
এই ভার্চুয়াল দল বা প্রতিবাদের ডিজিটাল মঞ্চটির প্রতিষ্ঠাতা হলেন অভিজিৎ দিপকে (Abhijeet Dipke)। তিনি আমেরিকার বস্টন ইউনিভার্সিটি (Boston University)-র ছাত্র এবং অতীতে আম আদমি পার্টির (AAP) সোশ্যাল মিডিয়া টিমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ইতিমধ্যেই এই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে তৈরি দলের অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখ (১১ মিলিয়ন) ছাড়িয়ে গিয়েছে, যা ইনস্টাগ্রামে বিজেপির অফিশিয়াল পেজের ফলোয়ার সংখ্যাকেও টেক্কা দিয়েছে। এর মূল স্লোগান হলো— "অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর" (Voice of the Lazy & Unemployed)।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই সংগঠনে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং প্রাক্তন cricketer তথা তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ।
- মহুয়া মৈত্রের টুইট: মহুয়া মৈত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যঙ্গ করে লেখেন, এমনিতেই তাঁকে ‘দেশদ্রোহী পার্টির সদস্যতা’ দেওয়া হয়েছে। পাল্টা জবাবে CJP-র পক্ষ থেকে মহুয়া মৈত্রকে ‘যোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে দলে স্বাগত জানানো হয়।
- কীর্তি আজাদের প্রশ্ন: অন্যদিকে, কীর্তি আজাদ জানতে চান এই দলে যোগ দেওয়ার যোগ্যতা কী? CJP-র তরফে অত্যন্ত মজাদার জবাব দিয়ে বলা হয়, “আপনার ১৯৮০ সালের বিশ্বকাপ জয় করার যোগ্যতাই আমাদের জন্য যথেষ্ট।”
ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) ৫ দফার ইস্তেহার
নিজেদের ‘ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক এবং অলস’ দল হিসেবে দাবি করে ইতিমধ্যেই ৫ দফার একটি ইস্তেহার প্রকাশ করেছে CJP। তাদের মূল দাবিগুলো হলো:
- সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিরা অবসরের পর কোনোভাবেই রাজ্যসভার সাংসদ হতে পারবেন না।
- সংসদের আসন সংখ্যা না বাড়িয়েই মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করতে হবে।
- দলবদলু বিধায়ক ও সাংসদদের জন্য কঠোর নিয়ম আনতে হবে।
- সিবিএসই (CBSE) বোর্ডে খাতা পুনর্মূল্যায়নের নামে ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে যথেচ্ছ টাকা নেওয়া বন্ধ করতে হবে।
- ‘নিট’ (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস বিতর্কে দেশজুড়ে ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীদের পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হবে।
এই দলে যোগ দেওয়ার শর্ত কী?
ককরোচ জনতা পার্টির সদস্য হতে গেলে নির্বাচন কমিশনের মতো কোনো কঠিন নিয়ম নেই, তবে রয়েছে কিছু অদ্ভুত শর্ত! CJP-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রার্থীকে অবশ্যই বেকার ও অলস হতে হবে। পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়ায় সার্বক্ষণিক উপস্থিতি এবং পেশাদারদের মতো ক্ষোভ উগরে দেওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে। যুবসমাজ তথা 'জেন-জি' (Gen-Z) প্রজন্মকে নিজেদের দিকে টানতে দ্রুতই তারা বড়সড় সাড়া ফেলেছে।
এটি কি শুধুই ট্রল, নাকি আসল রাজনৈতিক দল?
ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ২১০০-র বেশি রাজনৈতিক দল রয়েছে। যার মধ্যে ৬টি জাতীয় এবং ৬০টি regional দল। বাকি ২০৪৯টি দল নথিভুক্ত হলেও স্বীকৃতিহীন।
এই আবহে দাঁড়িয়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ কি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে খাতাকলমে রাজনৈতিক দল হিসেবে নাম নথিভুক্ত করবে? নাকি এটি নিছকই একটি ডিজিটাল প্রতিবাদ বা সমাজমাধ্যমের সাময়িক হিড়িক হয়েই থেকে যাবে- তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত যুবসমাজের একাংশ এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে এই 'আরশোলা বাহিনী' যে ব্যাপক ঝড় তুলেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এরই মধ্যে আবার এই দলের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট উইথহেল্ড বা উধাও হওয়া নিয়ে নতুন রহস্য দানা বাঁধছে।
দেশ-বিদেশের এমন আরও মজাদার ও ব্রেকিং খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন News ACS বাংলা-র পর্দায়।
- Meta Title: দেশের নতুন দল ককরোচ জনতা পার্টি! যোগ দিলেন মহুয়া মৈত্র ও কীর্তি আজাদ? জানুন বিস্তারিত - News ACS বাংলা
- Meta Description: Cockroach Janta Party: প্রধান বিচারপতির আরশোলা মন্তব্যের প্রতিবাদে তৈরি হলো 'ককরোচ জনতা পার্টি'। সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলোয়ার ১ কোটি পার! নাম লেখালেন তৃণমূলের দুই সাংসদও। বিস্তারিত পড়ুন News ACS বাংলা-য়।
- Focus Keywords: ককরোচ জনতা পার্টি, Cockroach Janta Party, মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ, সুপ্রিম কোর্ট, সূর্যকান্ত, News ACS বাংলা, রাজনৈতিক দল, ভাইরাল নিউজ, অভিজিৎ দিপকে, CJP।


পোস্ট পড়ার পর ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করতে ভুলবেন না ।
( After reading post not forgetting comments. ) 👆